যে উঁকুনের জন্যে মাথা ন্যাড়া...
তৌহিদ জামান
নিউজওয়ান24.কম
প্রকাশিত : ০২:৫৯ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০১৬ শনিবার | আপডেট: ০১:২১ পিএম, ১৮ মে ২০১৬ বুধবার

অবশেষে বড়ছেলে তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছাড়লেন। মাকে সময় দেওয়ার মত সময় আর নেই ছেলে কিংবা ছেলেবৌ কারোরই। সামনে তাদের দিন; এই বুড়ো এবং ক্ষয়ে যাওয়া মানুষটাকে অচ্ছ্যূত ভাবতেই ভাল লাগছে তাদের।
বাড়ি ছাড়ার জন্যে দুদিন ধরে বেশ গোছগাছ করছিলেন ছেলেবৌ। ট্রাক এনে তাতে মালামাল উঠাতে বেশ কয়েকটি বস্তা বানাতে হয়েছে। বেশ ধকল গেল!
গত এক সপ্তায় মাকে একবারও বলার প্রয়োজন অনুভব করেননি তারা।
আজ যখন মালামাল সব ট্রাকে তোলা কমপ্লিট, ছেলে মাকে শুধালেন- তুমি যাবে না?
তিনি জানতেন, মা কোনোদিনই তার স্বামীর ঘর ছাড়বেন না। এখানেই তো তিনি প্রসব করেছিলেন তার অর্ধ ডজনের বেশি সন্তানকে। নাড়ি ছেঁড়া ধনগুলোর কত স্মৃতি রয়ে গেছে তার। তাই তো যেখানেই যান, দুদিন পরেই বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে তার।
আজ তার প্রথম সন্তান বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এমন তো নয়, দুদিনের জন্যে যাচ্ছে আবার ফিরে আসবে! এ যাওয়া মানে হলো প্রস্থান। এই যাওয়ার সঙ্গে ছেলের বৌয়ের টনকে টন অভিমান জড়িত! সংসারে দিবানিশি যন্ত্রণার (!) স্মৃতি জড়িত।
মায়ের চোখের কোণে জল চিকচিক করে ওঠে!
বুকটা যেনো ফেটে যাওয়ার জন্যে প্রচণ্ড রকমের ঢপঢপ শব্দ করছে। যেনো এক্ষুনি সব আগল ভেঙেচুরে বেরিয়ে আসবে...
বিদায়বেলা-
ছেলেবৌ মাকে জাপটে ধরেন। চোখের জলে ভাসিয়ে মাকে বলেন, মা আমাদের জন্যে বদদোয়া করবেন না!
হা হা হা
মায়ের চোখের কোণে যে জল এসেছিল, এ কথা শোনার পরে তা শুকিয়ে যায়- উধাও হয়ে যায় নিমেষে!
বৌ বলেন, মা আপনি না হয় চলেন! এখানে কার কাছে থাকবেন... ইত্যাদি
মা নির্লিপ্ত কণ্ঠে কিন্তু বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমার জন্যেই তো বাড়ি ছাড়ছো বৌমা। আমিই যদি আবার তোমাদের সঙ্গে যাই, তাহলে কেমন হয়। যে উঁকুনের জন্যে মাথা টাকা করলে, তাকে আবার ডাকছো!
লেখক: যশোরবাসী সংবাদকর্মী
নিউজওয়অন২৪.কম/একে